বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
নকলমুক্ত পরীক্ষার লড়াইয়ে প্রস্তুত শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসন!
অনলাইন ডেস্ক
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের বহুল প্রতীক্ষিত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন)। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হবে লিখিত পরীক্ষা, চলবে টানা ১০ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর শুরু হবে ব্যবহারিক ধাপ।
এ বছর সারা দেশে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ১০ লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি, মাদ্রাসা বোর্ডের আলিম পরীক্ষার্থী ৮৬ হাজার ছাড়িয়েছে, আর কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৯ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী। দেশজুড়ে ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৮১ হাজার ৮৮২ জন। ২০২৪ সালে মোট ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এবারও নকলমুক্ত, স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের গুজব দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে দেশের সব কোচিং সেন্টার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২৪ জুন এ নির্দেশনা জারি করে।
শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হয়েছে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা: ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিতি, ওএমআর শিটে তথ্য সঠিকভাবে লেখা, উত্তরপত্র ভাঁজ না করা, শুধু সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার, বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল পরীক্ষায় বিরতি না থাকা, কেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ, তিনটি বিভাগে আলাদাভাবে পাস করা, শুধু নির্ধারিত বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, কেন্দ্র স্থানান্তর করে আসনবিন্যাস এবং প্রত্যেক অংশের উপস্থিতিপত্রে স্বাক্ষর দেওয়া বাধ্যতামূলক।
এদিকে, পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ৩৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। প্রতিটি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক রাখতে হবে এবং তিন ফুট দূরত্বে বসাতে হবে। পরীক্ষার তিন দিন আগে প্রশ্নপত্র যাচাই করে খামে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত দিন নির্ধারিত সেটের খাম খোলার নিয়ম মানতে হবে। অব্যবহৃত সেট ফেরত পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে।
কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, মাইক দিয়ে সচেতনতা প্রচার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নকলবিরোধী পোস্টার টানানো বাধ্যতামূলক। পরীক্ষার সময় শুধুমাত্র কাঁটাযুক্ত এনালগ ঘড়ি ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। বর্ষাকালীন বিদ্যুৎ বিভ্রাট রোধে বিদ্যুৎ অফিসকে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক খন্দকার এহসানুল কবির নিশ্চিত করেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
স্বাস্থ্যবিধিও উপেক্ষা করা হয়নি। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় সবাইকে মাস্ক পরা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২০২৪ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাড়তি নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।